ম্যাচ-পূর্ব আনুষ্ঠানিকতায় সৌজন্যবোধের অভাব
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচের আগে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৫
ভারতের বুলাওয়েওতে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচের আগে দুই দলের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ-পূর্ব আনুষ্ঠানিকতায় ভারতীয় দলের অধিনায়কের আচরণ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে টসের সময় ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আয়ুষ মহাত্রে এবং বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরারের মধ্যে কোনো ধরনের সৌজন্য বিনিময় দেখা যায়নি। টসের সময় দুজন কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও হয়নি করমর্দন বা শুভেচ্ছা বিনিময়। টস শেষে আয়ুষ মহাত্রে সরাসরি জাওয়াদ আবরারের পাশ দিয়ে হেঁটে চলে যান।
অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক মো. আজিজুল হাকিম তামিম খেলতে না পারায় সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার দলকে নেতৃত্ব দেন। টসে জিতে বাংলাদেশ প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
টসের সময়ই শুধু নয়, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মাঠে নামার আগেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ধরনের করমর্দন বা পারস্পরিক যোগাযোগ দেখা যায়নি। উভয় দলই একে অপরকে এড়িয়ে চলে, যা মাঠে বিদ্যমান উত্তেজনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানি দলের সঙ্গে করমর্দন ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলে ভারতীয় ক্রিকেট দল। এমনকি এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ট্রফি গ্রহণ থেকেও বিরত থাকে তারা।
এবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতের একই মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেই মাঠে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ চাপে রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬-এর কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে অনুরোধ জানায়, আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ তাদের সব ম্যাচ যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়, কারণ নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে দল পাঠাতে আগ্রহী নয়।
এমন প্রেক্ষাপটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে দুই দেশের চলমান টানাপোড়েনের প্রথম সরাসরি প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।