বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও দুজনকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও দুজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন খেলোয়াড় এবং অন্যজন দলের সহায়ক কর্মী। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, দলটি অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করার আগেই তারা আশ্রয়ের আবেদন করেন। সিডনি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা ও দোভাষীরা ইরানি তত্ত্বাবধায়কদের অনুপস্থিতিতে দলের নারী সদস্যদের আলাদাভাবে ডেকে আশ্রয়ের সুযোগ দেন।

টনি বার্ক বলেন, তাদেরকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কোনো ধরনের তাড়াহুড়া বা চাপ ছিল না।

দলের এক সদস্য সিডনি থেকে ছাড়ার নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠা বিলম্বিত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

এই দুজনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের নারী ফুটবল দলের মোট সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় অস্থায়ী মানবিক ভিসা পেয়েছেন। এই ভিসার মেয়াদ ১২ মাস। এ ধরনের ভিসা ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করতে পারে।

এর আগে দলটি গোল্ড কোস্টের হোটেল থেকে সিডনির অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় কিছু ইরানি–অস্ট্রেলীয় নাগরিক বিক্ষোভ করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরানে ফিরে গেলে খেলোয়াড়রা সমস্যায় পড়তে পারেন।

এই পরিস্থিতির পেছনে একটি বিতর্কও রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দলটিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেয়। কারণ, এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাননি। যদিও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা সংগীত গেয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের প্রধান কৌঁসুলির দপ্তর দলের বাকি সদস্যদের শান্তিপূর্ণভাবে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও খেলোয়াড়দের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরকার নতুন একটি আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।

তবে এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে দেশটির গ্রিনস পার্টি। তাদের দাবি, আইনটি মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের জন্য আশ্রয়ের পথ সীমিত করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানে চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন সদস্য বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top