নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেবীদ্বারের সব সরকারি কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ থেকে লাইভে এসে তিনি এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে তিনি মূলত এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সরকারি সেবার মান যাচাইয়ের কাজ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি কাজের তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
দেবীদ্বারের রাস্তাঘাটের দুরবস্থাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরের অধীনে বেশ কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। বর্ষা শুরুর আগেই এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে একাধিক কাজ একসঙ্গে নিয়ে ধীরগতিতে কাজ করার প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানান।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তার বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেবীদ্বার পৌরসভায় তিন হাজার ৮১টি এবং ১৫টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ৬৩৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১০টি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুটি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ খোলার ঘোষণাও দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ, অগ্রগতি এবং সরকারি সহায়তার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
লাইভে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তার লক্ষ্য সরকারি সেবার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।