সুইডেনে যাত্রা শুরু করল খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:৪৩

সংগৃহীত

সুইডেন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও প্রামাণ্য কাজ পরিচালনাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। ইউরোপে এ ধরনের গবেষণামূলক উদ্যোগ এটিই প্রথম।

গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি অডিটোরিয়ামে ইনস্টিটিউটটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টকহোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর রেহানা পারভিন এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব নিজাম উদ্দিন। এছাড়া খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের উদ্যোক্তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন কাইজার, পাপেল খান ও রাইসুল হকসহ প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা তার রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব ও সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সামরিক শাসনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তার নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক আলোচনায় উঠে আসে।

খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের অন্যতম উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন কাইজার বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ইনস্টিটিউট গবেষণা, প্রকাশনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ বলেন, “এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বকে গভীরভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইতিহাস ও নেতৃত্বকে গবেষণার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা একটি স্মরণবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top