যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৯
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেল বিপণন এবং তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার এককভাবে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিপণন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে ব্যয় করা হবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তির অর্থ দিয়ে দেশটি শুধুমাত্র আমেরিকায় উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিন ধাপের একটি বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। প্রথম ধাপ: তেল বিক্রির অর্থের ওপর কঠোর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ।দ্বিতীয় ধাপ: মার্কিন ও বিদেশি কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বন্দি মুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা। তৃতীয় ধাপ: দেশটিতে রাজনৈতিক ‘উত্তরণ’ বা শাসন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তিনি একে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে আমেরিকান জনগণের চেয়ে বড় তেল কোম্পানির নির্বাহীরা বেশি জানেন।
ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা ১৯৭০-এর দশকের আগের **‘ইজারা প্রথা’**র মতো, যেখানে সম্পদের মালিক দেশ হলেও বিপণন ও মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করত পশ্চিমা শক্তি।
এদিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। এর মধ্যে উত্তর আটলান্টিকে থাকা একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পরিপন্থী।
তাদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদসমৃদ্ধ দেশটির সম্পদ দখলে সামরিক আগ্রাসন বা শাসন পরিবর্তনের কৌশল কোনোভাবেই বৈধতা পায় না। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আংশিক নৌ-অবরোধ ও জাহাজ জব্দের ঘটনা ভেনেজুয়েলা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে চরম আন্তর্জাতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।