প্রিয়তমাকে হারিয়ে বিষণ্ণতায় গাজার যুবক আহমেদ আবু সাদা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:০১
নিশ্ছব্দতার এক অদৃশ্য চাদর আহমেদ আবু সাদার জীবনের উপর ভরে আছে—সেই মুহূর্ত থেকে, যখন তিনি তার জীবনের সবচেয়ে আলোয়োময় মানুষকে হারালেন। তাদের বিয়ের ঠিক দু’দিনের মধ্যেই, গাজায় একটি ভগ্নপ্রায় দেয়াল তাদের ছোট তাবুর উপর ভেঙে পড়ে, মুহূর্তে ওয়াল্লার জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়।
যা হতে পারত তাদের সুখী জীবনের প্রথম দিন, তা রূপ নিল এক চিরন্তন দুঃখের ছবিতে। তরুণ আহমেদ এখন শোকের সাগরে ভাসছেন, চারপাশে শুধু ভগ্নস্বপ্নের টুকরো, এমন স্বপ্ন যা গঠনের আগেই ছিন্ন হয়ে গেছে।
আহমেদ, বিশ বছরের এক যুবক যিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তার জীবন ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। সে নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল, এক সাধারণ জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল। ওয়াল্লা জাহার সঙ্গে পরিচয়, এবং একসাথে তাদের ভগ্নদশার মধ্যেও জীবনের কষ্টের বিরুদ্ধে একরাশ আশা তৈরি করা—এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।
২৭ ডিসেম্বর তারা স্থানান্তরিত অবস্থায়, শহরের ক্ষতিগ্রস্ত তীরে, একটি সাধারণ তাবুতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু কেবল দু’দিনের মধ্যেই, সেই স্বপ্নময় মুহূর্ত ভেঙে পড়ে। শীতের ঝড় তীব্র বাতাস আর ভারী বৃষ্টির সঙ্গে আসে, এবং ধ্বংসপ্রায় দেয়ালটি তাদের তাবুর উপর চাপিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ওয়াল্লার জীবন শেষ।
সেই রাতের পর, আহমেদ এক নিঃশব্দ জগতে হারিয়ে গেছেন। ফোনে সে বারবার বিয়ের ছবিগুলো ঘুরিয়ে দেখে, সেই ক্ষণগুলো যা কেবল কয়েক ঘন্টা ছিল, এখন তার হৃদয়ের গভীরে এক অমোঘ ব্যথার উৎস।
“আহমেদ তার প্রতিবন্ধিতা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে, জীবনের স্বাভাবিক সুখের জন্য লড়েছে,” বললেন তার পিতা, সাআদ আল-দীন আবু সাদা।
“কিন্তু এবার সে এক আরও বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি। গভীর মানসিক আঘাত তাকে নিঃশব্দে একাকী করে দিয়েছে। আগের মতো আর হাসতে বা কারো সঙ্গে কথা বলতে পারে না।”
আজ আহমেদ তার দিনের অধিকাংশ সময় কাটান সেই একই বিছানায় শুয়ে, যেখানে এখনও তার প্রিয়তমার রক্তের চিহ্ন রয়েছে—প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাকে তার হারানো জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।