ইসলামাবাদে চলছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, যেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানকে “অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো বোঝেন”।
আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রস্তাব বিনিময়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছে, যা তিনি আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন, যা এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কিছু তথ্য ফাঁস হলেও বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে, যা সমঝোতার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এই আলোচনার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে। লেবানন-এ সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েল-এর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এতে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও থেমে নেই। লেবানন জানিয়েছে, তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন-এ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই আলোচনা একদিকে যেমন শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে চলমান সহিংসতা সেই আশাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।