সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রনালিতে চরম উত্তেজনা,মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৪

সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, ওমান সাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ জব্দ অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ। তবে হামলার মাত্রা, ব্যবহৃত ড্রোনের সংখ্যা বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালির কাছে ‘তুসকা’ নামে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভেঙে চলাচল করছিল। এরপর মার্কিন নৌবাহিনী সেটিকে আটক করে নিয়ন্ত্রণে নেয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সতর্কবার্তা অমান্য করায় মেরিনরা জাহাজটিতে ওঠে এবং এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পরে অভিযানটির ভিডিও প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন” এবং “সশস্ত্র জলদস্যুতা” বলে আখ্যা দেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন বাহিনী জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে সেটি দখল করে নেয়।

প্রথমে জাহাজ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ইরান ঘটনাটি স্বীকার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে। তেহরান আরও দাবি করেছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং এটি একটি বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ ছিল।

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান শর্ত না মানলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমা ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top