মে দিবসে বিশ্বজুড়ে মার্কিন-ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬, ১২:১৪
বিশ্বজুড়ে পালিত মে দিবস এবার প্রথাগত শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়োজিত সমাবেশে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্লোগান, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
প্যারিস, মাদ্রিদ, ইস্তাম্বুল থেকে শুরু করে সিউল ও ম্যানিলা পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদকে দায়ী করেন। প্যারিসে শ্রমিক নেতাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগান বড়ভাবে দেখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে টিয়ার গ্যাস ও গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ ‘পুঁজিবাদের যুদ্ধের খেসারত দিতে হবে’ লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। জার্মানির মিউনিখে বামপন্থি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ইস্তাম্বুলে তাকসিম স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো বড় সমাবেশ করে ইরান ও ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। তবে কিছু বিশ্লেষক এই পরিস্থিতিকে মে দিবসের “আদর্শিক রূপান্তর” হিসেবে দেখছেন, যেখানে শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও মতাদর্শিক সংঘাতও কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।