শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

লন্ডনের ফতোয়া ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামায়াতকে কুফরি বলা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

এস কে বাপ্পি, খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৫

ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় এক নির্বাচনী সমাবেশ । ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লন্ডনের ফতোয়া আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিএনপি নেতারা জামায়াতকে শিরক ও কুফরি আখ্যা দিচ্ছেন। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা দাবি করে জামায়াত নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা। তারা আরও বলে আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি। অথচ জামায়াত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না, বরং ধর্ম মেনে চলে।

তিনি বলেন, যারা বছরের ১২ মাস ধর্ম মানে না, অথচ ভোটের সময় টুপি ও ধর্মীয় পোশাক পরে মাঠে নামে—তারাই প্রকৃতপক্ষে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। লন্ডনের ফতোয়ার দোহাই দিয়ে জামায়াতকে শিরক বা কুফর বলা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের কেউ কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তখন জামায়াত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল। সে সময়কার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু কোনো অপরাধের প্রমাণ নেই।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ থাকে, তবে বিএনপি কেন একসময় জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল—সে প্রশ্নের জবাব আগে দিতে হবে।

সমাবেশে তিনি বলেন, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের বিরোধিতা করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে কুফরি আখ্যা দেওয়াকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বলে আখ্যা দেন।

ভোটারদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না। ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। তিনি ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন জরুরি।
১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল স্থানীয় একটি মহিলা সমাবেশে যোগ দেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top