ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার না হতে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই: ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব
মেহেরপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৬
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেছেন, কোনো প্রধানমন্ত্রী যাতে ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারেন, সে জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেন, “বিগত সময়ে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর হাতেই প্রায় সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার প্রধান এবং কার্যত বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁর হাত ধরেই প্রধান বিচারপতির নিয়োগ হয় এবং সংসদে আইন পাস হয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। এর ফলেই বারবার ফ্যাসিবাদ ফিরে এসেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার দুটি বড় সমস্যা রয়েছে। এক, প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দুর্বল—রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে গিয়ে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। দুই, প্রশাসন স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন।”
তিনি বলেন, “যদি আমরা বিচার বিভাগকে ক্ষমতায়িত না করতে পারি, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদ—এই তিনটি স্তম্ভকে আলাদা ও স্বাধীন না রাখতে পারি, তাহলে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে ক্ষমতাবান। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, পিএস কিংবা সচিবরাও অনেক ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর হয়ে যান।”
ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেন, “এই কুফলগুলো থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় প্রতিবারই ব্যক্তি-কেন্দ্রিক ক্ষমতা ও স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসবে।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।