আমেনা হত্যা মামলায় ৪ ধর্ষকসহ আটক ৯
নরসিংদী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৩
নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের সৎ পিতাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সৎ পিতা আশরাফ আলী, প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) পূর্ব থেকে ভিকটিম আমেনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার আমেনা হত্যার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলী তাকে হত্যা করে। ওই রাতে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করে বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে সে।
জবানবন্দিতে আশরাফ আলী দাবি করেছে, ভিকটিমের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন। এ কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে জানান।
পুলিশ জানায়, আমেনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশরাফ আলীকে গত ৬ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। তার স্থায়ী বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী থানার কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
এছাড়া আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং অপর আসামি হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), আইয়ুব (৩০), ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০) এবং আশরাফ আলী (৪০)।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় ২৬ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।