মাইকে নির্দেশনা দিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইমামসহ ২ নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে জড়ালে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়। এই ঘটনায় বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে শুরু করেন জিয়াউর।
এরপর জিয়াউর কারাগার থেকে বের হয়ে শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা তখন তীব্র হয়। গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে পুনরায় বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। সংঘর্ষে গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০) টেঁটাবিদ্ধ হয়ে পরে। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, "পূর্বের বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।"
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, "পূর্ববিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।"
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।