শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

খুলনায় শিশু হাসপাতালে বেড সংকটে ভোগান্তি চরমে

এস কে বাপ্পি খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

দুপুর ২ টার দিকে খুলনা শিশু হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মায়ের কোলের উপর মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছে দুই শিশু। অন্যদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষায় সময় গুনছেন মা মুন্নি বেগম। গতকাল বুধবার তিনি ৮ বছর বয়সী মেয়েকে, যিনি টায়ফয়েডে আক্রান্ত, খুলনা শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।

মুন্নি বেগম জানিয়েছেন, “সকাল ৭টার দিকে হাসপাতাল এসেছি। ডাক্তার দেখানোর পর মেয়েকে ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে। তবে দুপুর সোয়া ২টার সময়েও বেড পাওয়া যায়নি। ওর বাবা দুই ঘন্টা ধরে সিটের জন্য অপেক্ষা করছেন।”

দৌলতপুরের বিথী বেগমও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছেলে এক সপ্তাহ ধরে কাশি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল। “ডাক্তার ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু এখনো বেড মেলেনি,” তিনি বলেন।

শুধু খুলনা শিশু হাসপাতাল নয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেও বেড সংকট চরমে। ৪৮টি বেডের বিপরীতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০০। রোগীদের অনেককে বারান্দা বা ফ্লোরে অবস্থান নিতে হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে খুলনায় হাম, নিউমোনিয়া, টায়ফয়েড ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

নূরজামাল, যিনি নাতি ইব্রাহীমকে কোলে নিয়ে ভর্তি করেছেন, জানান, “প্রথমে বেড মেলেনি। অনেক চেষ্টা করার পর পেয়েছি। এখন অনেকটা সুস্থ। বৃহস্পতিবার ছাড়পত্র পাব।”

দৌলতপুরের বাসিন্দা উর্মি খাতুন বলেন, “সাত মাসের ছেলে আরফান নিউমোনিয়া আক্রান্ত। প্রথম দিন বেড পাইনি, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরেরদিন বেড পাওয়া গেছে। এখানে বেড সংকট রয়েছে।”

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হাম, নিউমোনিয়া, টায়ফয়েড ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় সব রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়েদা রুখশানা পারভীন জানান, “হাসপাতালে ৪৮টি শয্যা রয়েছে। ভর্তি রয়েছে প্রায় ২০০ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ জন, বাকিরা জ¦র, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।”

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, “পদ্মার এপারে সর্ববৃহৎ শিশু হাসপাতাল এটি। এখানে ২৭৫ বেড রয়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী আসছে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা সবসময় পরিপূর্ণ থাকে। নতুন রোগী ভর্তি করতে গেলে আগে ছাড়া রোগীর বেডে স্থান দিতে হয়। হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু রোগী অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।”

ডা. প্রদীপ আরও বলেন, “আবহাওয়া পরিবর্তনের পরপরই সিজনাল রোগের সংখ্যা বেড়ে গেছে। জ¦র, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী বেশি আসছে।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top