পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভে খামারিরা
নরসিংদী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৯
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিভিত্তিক অদক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে পশু চিকিৎসা করানো, সরকারি অফিসে বসেই ব্যক্তিগত ফার্মেসির ওষুধ ব্যবহারে বাধ্য করার মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারি ও সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে কিছু চুক্তিভিত্তিক লোককে দিয়ে পশু চিকিৎসার কাজ করানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা অনুমোদন নেই। ফলে ভুল চিকিৎসার কারণে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় খামারিদের ভাষ্য, সরকারি চিকিৎসক না থাকলে এসব চুক্তিভিত্তিক লোকজনই চিকিৎসা প্রদান করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যক্তিগতভাবে ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, সরকারি অফিসে বসেই প্রেসক্রিপশন দিয়ে নির্দিষ্ট একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে পরামর্শ দেওয়া হয়, যা সরকারি চাকরির আচরণবিধির পরিপন্থী এবং স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
সরেজমিনে আরও জানা গেছে, ভেটেরিনারি সার্জন ও কম্পাউন্ডারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসনে চুক্তিভিত্তিক লোকজন অর্থের বিনিময়ে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তারা সেখানে থাকেন।
এ ছাড়া ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বরাদ্দের ওষুধের সঠিক হিসাব-নিকাশ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। পাশাপাশি কিছু কর্মচারীর দুর্ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, সরকারি বাসায় চুক্তিভিত্তিক লোকজনের অবস্থান মূলত নিরাপত্তার স্বার্থে।
এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করে। তাই স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।