কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর রাতে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সুধীর দাস (৫০) অভিযোগ করেন, একই এলাকার মিজানুর রহমান, দুলাল ও কাউসারসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তার ক্রয়কৃত জমিতে টিনশেড দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
তিনি জানান, ২০০৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৫৯ নম্বর এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে কাস্তুল মৌজার এসএ ২৯০ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরাও একই জমিদার পরিবারের অন্য অংশ থেকে কিছু জমি কিনলেও এখন সংখ্যালঘু পরিবারের জমির একাংশ নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন আদালত।
তবে ওই নির্দেশনা অমান্য করে ভোর রাতে জমিতে টিনশেড দিয়ে ঘেরাও করে দখল নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সকালে ঘুম থেকে উঠে জমি দখল হয়ে গেছে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবার। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউসার বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা নিজেদের জায়গায় প্রয়োজনের তাগিদে বাউন্ডারি দিয়েছেন।
অষ্টগ্রাম থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ১৪৪/১৪৫ ধারা অমান্যের ঘটনা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এভাবে রাতের আঁধারে জমি দখল আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। এতে সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।