খুলনায় তেলের তাণ্ডব অব্যাহত, চড়া দামে বিক্রি ও হাতাহাতি
খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হচ্ছে। পাম্পগুলোতে তেল মেলছে সীমিত পরিমাণে, আর দীর্ঘ মটরসাইকেল লাইনের কারণে দিনভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা বাড়ছে। এদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ড্রাম বা পটে তেল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। প্রশাসনের অভিযান থাকা সত্ত্বেও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।
শুক্রবার খালিশপুর এলাকায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল ৩ ভ্যানে থাকা ৬ ড্রাম তেল আটক করেন। কিন্তু এর পরও ড্রামে তেল সরবরাহ অব্যাহত ছিল। লবনচরা এলাকার মাই ম্যাক্সসিস নামের প্রতিষ্ঠান এক লিটার অকটেন ২১০ টাকায় বিক্রি করছিল।
শনিবার জিরোপয়েন্টের শিকদার ফিলিং স্টেশনে মেসার্স গালিক অয়েল এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল জব্বার মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে পাম্প থেকে তেল ক্রয় করতে আসেন। এনএসআই খুলনা মেট্রোর তথ্যের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এছাড়া দৌলতপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিপো পরিদর্শনে ১৭২ লিটার তেলের ঘাটতি ধরা পড়ে। ফুলতলা থেকে আগে ১২৩৫ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। পাম্পে তেল নিতে আসা দু’গ্রাহকের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনায় হাতাহাতি হয়েছে।
ডুমুরিয়ায় আঠোরোমাইল সেঞ্চুরি ফিলিং স্টেশনে পটে তেল নেওয়ার ভিডিও ধারণের ঘটনায় সাবেক শিবির সভাপতি মারপিটের শিকার হন। মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পাল্টা অভিযোগ করেন। এতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।
সাড়িয়াড়া মোড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি অব্যাহত। উপজেলা সহকারী কমিশার অমিত কুমার বিশ্বাস অভিযান চালালেও মজুত তেল জব্দ করা হয়নি।
শুক্রবার ও শনিবার সকালে গল্লামারী মেট্রো, শিকদার ও ডুমুরিয়া এ লতিফ ফিলিং স্টেশনে লম্বা মটরসাইকেল লাইনের দৃশ্য দেখা যায়। ধান ব্যবসায়ী নাসির সরদারের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪–৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০–৫০০ টাকার তেল পাওয়া যায়।
খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত বলেন, “আমাদের ভ্রাম্যমান টিম মাঠে সর্বদা রয়েছে। ওজন কম বা দাম বেশি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে, তারপর আরও নির্দেশনা আসবে।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।