রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২

ঈদের দিনে ‘প্রিন্স’ বিপর্যয়: অর্ধশতাধিক হলে শো বন্ধ, ক্ষুব্ধ দর্শকদের হল ভাঙচুর

চিত্তবিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে মুক্তি পাওয়া সুপারস্টার শাকিব খান–এর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের শুরুতেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। প্রযুক্তিগত জটিলতা, অনুমোদন সংকট এবং সময়মতো প্রদর্শন ফাইল সরবরাহ না হওয়ায় অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে শো বাতিল করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকদের ভাঙচুর, টিকিট ফেরত এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হল মালিকরা।

প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানান, নতুন সার্ভার ব্যবস্থার জটিলতা, অনুমোদন না পৌঁছানো এবং অন্যান্য কারিগরি সমস্যার কারণে দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক হলে সকালের শো বন্ধ রাখতে হয়েছে।

হল সংশ্লিষ্টরা জানান, সিনেমাটির ডিজিটাল কপি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সরবরাহ করা হয়। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অপরিচিত থাকায় অনেক হল অপারেটর সময়মতো কনটেন্ট প্রস্তুত করে প্রদর্শন করতে পারেননি।

যেসব হলে কপি পৌঁছেছে, সেখানেও অনুমোদন জটিলতা এবং শব্দ সমস্যার মতো ত্রুটি দেখা গেছে। ফলে দর্শক হলে প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গায় সিনেমা চালানো সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একটি অংশ প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর চালায়।

বগুড়ার একটি প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকনুজ্জামান ইউনূস জানান, অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত শো চালানো সম্ভব হয়নি। তার দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহ একই সমস্যায় পড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সৈয়দপুরের একটি হলে। অপারেটর আব্দুর রহমান বলেন, সিনেমা থাকলেও শব্দ না থাকায় দর্শক ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছে। অগ্রিম বিক্রি হওয়া সব টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।

মাদারীপুরের টেকেরহাটের এক হলের মালিক রাহুল খান জানান, কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও দুপুর পর্যন্ত সার্ভারে সিনেমা চালু করা যায়নি। এতে টিকিট ফেরতের পাশাপাশি ভাঙচুরেও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

শুধু একক প্রেক্ষাগৃহ নয়, দেশের বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও বিকেল পর্যন্ত সিনেমাটির কোনো কপি পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া ও বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ে ফাইল না পাওয়ায় সিনেমাটির কোনো শো চালানো সম্ভব হয়নি, ফলে বিকল্প সিনেমা প্রদর্শন করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতির জন্য প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে হল মালিকরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার প্রবণতার ফলেই এমন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে পরিবেশক অনন্য মামুন এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top