ইউনূস- মোদির ৪০ মিনিটের বৈঠক

ইউনূস- মোদি বৈঠকে সম্পর্কের কতটা নবায়ন হলো? হাসিনা কী দেশে ফিরবেন?

রাজীব রায়হান | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

গেল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। সাইডলাইনে বৈঠকে বসেন দুই দেশের দুই শীর্ষনেতা। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে উঠে আসে সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ।

গত বছরের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারে পতন ঘটে। আকস্মিকতায় থমকে যায় দুই দেশের সম্পর্কের গতি। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন। কূটনৈতিক পরিসর ছাপিয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য।

শেখ হাসিনার পতনের আগে থেকেই অবশ্য ভারত-বিরোধী প্রচারণা দানা বাঁধছিল। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয় নেন ভারতে। আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকতে সহায়তা করার অভিযোগ ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা ও অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে ন্যায্যতার দাবি তো রয়েছেই।

ডক্টর ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময়ও সেভেন সিস্টার্সের প্রসঙ্গ টানেন। এতে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ভারতে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দিল্লির উদ্বেগ। সেই অভিযোগের বাস্তবতা নিয়ে ঢাকাও প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সময়।

তবে এরমধ্যে সাইডলাইন বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কে সব অস্বস্তি দূর হয়ে যাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে গঠনমূলক আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তবে সবচেয়ে বড় খবর হলো- নরেন্দ্র মোদির কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে শেখ হাসিনা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন, সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ভারতের জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আলোচনাটি স্বস্তিদায়ক নয়। তারা বলছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এ বৈঠক একটি ইতিবাচক ঘটনা। আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত পুরানো বন্ধুত্বের কতটা নবায়ন হলো? দেখার বিষয় জল কোন দিকে গড়ায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 




পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top