মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহার করলে চাকরি যাবে: প্রধান বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩

সংগৃহীত

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেদিনই হবে ওই বিচারকের বিচারিক জীবনের শেষ দিন।

সম্প্রতি দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই অভিভাষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ বজায় রাখা, দ্রুততম সময়ে মামলার আদেশ ও রায় প্রদান, সততা নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের কোর্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে বিচারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারকদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

দ্রুত রায় প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই রায় প্রকাশ করতে হবে। রায় দিতে বিলম্ব হলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়, যা সময়ের অপচয় ঘটায় এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়। এ কারণে রায় বা আদেশ প্রদানে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া অন্য কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে বিচারকদের সতর্ক থাকতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতা ছাড়াও হকারদের দেখা যায়—এদের প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি আইনজীবীরা যেন ড্রেসকোড মেনে চলেন, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, অধস্তন আদালতের অফিস সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে। এ সময়ের মধ্যে দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য নির্ধারিত বিরতি থাকে বলে জানিয়েছেন নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top