বিএনপি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:১৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ ও মন্ত্রণালয়ের তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে দলের সিনিয়র নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, এটি বর্তমান সরকারের তুলনায় অনেক ছোট হবে এবং মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে কমিয়ে ৩০-এর নিচে আনা হতে পারে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হবে। দলের সিনিয়র নেতা ও অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, আর তরুণ ও মেধাবী নেতারা উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন। মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সমমনা দলগুলোর মধ্যে যারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। একই দিনে বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকবেন।
নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আছেন: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
নারীদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতাদের মধ্যে আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ইশরাক হোসেন।
মিত্র দলগুলোর মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ ও লক্ষ্মীপুর-১ থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয়ী হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার আন্দোলনের নুরুল হক নুর মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন না, তারা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে কাজ করতে পারেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম খানকে রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
সবশেষে, নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শপথ গ্রহণের পরই নিশ্চিত হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।