বৃহঃস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

‘এক-এগারোর’ আলোচিত সাবেক জেনারেল, কে এই মাসুদ?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার রাতেই বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সময় তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত রক্তপাতবিহীন সেনা অভ্যুত্থানের সময় তিনি জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই কমিটি দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করত। পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করা হতো।

সেই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আটক করা হয়েছিল। তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল। জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে কিছু অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পারিবারিকভাবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই হিসেবে তার সেনা জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নতি হয়। তিনি নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করতেন।

২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ অভ্যুত্থান ও জরুরি অবস্থার সময়ে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাল্টে দেওয়া, ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে সরানো এবং রাজনৈতিক দিক থেকে নতুন চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

২০০৮ সালের জুনে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ওই দায়িত্বে রাখে।

সেনা থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও জনশক্তি রপ্তানি, অভিজাত রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীতে হাসিনা-পতন আন্দোলনের সময় অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শহীদ হন। এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবশেষে সোমবার রাতেই তিনি পুলিশ হেফাজতে চলে আসেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top