হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ পাচ্ছে নিরাপত্তা
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:২১
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কিছু ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য সরবরাহ চেইন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থবিরতা তৈরি হলেও, এখন ইরান বাছাই করা কিছু দেশকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে বা বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি দেয়, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশের নাম এই বিশেষ তালিকায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে শত্রু রাষ্ট্রদের জন্য এই পথ বন্ধ রয়েছে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব দেশ ইরানকে প্রতিপক্ষ মনে করে বা চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ প্রণালি পার হতে পারবে না। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ তাদের হাতে নিয়ন্ত্রণাধীন।
শিপিং তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০টি জাহাজ চললেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে, যার অধিকাংশ তেল ও গ্যাসবাহী। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব এবং ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে ইরান এই জলপথকে তাদের প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।