শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০

ছবি: সংগৃহীত

বিগত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের কার্যক্রম আজ শুক্রবার সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতির মাধ্যমে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ যাত্রা কোন পথে হবে—সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের উন্নয়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই দায়িত্ববোধ থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, পূর্ববর্তী সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিভিন্ন সূচকের তুলনামূলক চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। অর্থনীতি আকারে বড় হলেও এর ভেতরে কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। পরে ভুল নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়ায়।

শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না বাড়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে যুক্ত হচ্ছে, ফলে আড়াল বেকারত্ব বেড়েছে এবং তরুণদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়েছে। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ থাকলেও জাতীয় উৎপাদনে এর অবদান মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয়ের হার ছিল ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব আদায়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের আয় সক্ষমতা সীমিত থেকেছে।

বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে তা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা পরে বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে বাস্তবায়িত বড় প্রকল্পগুলো অতিমূল্যায়িত ছিল এবং যথাযথ যাচাই ছাড়া বাস্তবায়নের কারণে জনগণ এর সুফল পায়নি, বরং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুদ পরিশোধের ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রেও দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে গেছে, যদিও প্রবাসী আয় সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top