কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেন আনসার-ভিডিপির ৮৮৪৩ সদস্য
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৫
সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় দেশের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত এসব সদস্যের ঋণের চাপ কমায় তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারা দেশে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত, আর প্রায় ৯৮ শতাংশ সদস্য সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধায় ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার জন্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম এই বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য সরকারি চাকরিজীবী নন। কেবল কিছু সদস্য—যেমন বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার—সরকারি চাকরিতে রয়েছেন।
উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু সদস্য বেতন-ভাতা পেলেও ভিডিপির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই সময়ের জন্য ভাতা পান। বছরের বাকি সময়ে তাদের কোনো নির্দিষ্ট আয় থাকে না।
জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ, বৃক্ষরোপণসহ নানা কৃষিভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকেন বলেও জানান তিনি।
মীর মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য সমাজের নিম্ন আয়ের শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে।
তিনি জানান, এই ব্যাংকের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই বিনা জামানতে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্যকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক।
সদস্যদের এক থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। অধিকাংশ সদস্য নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে সারা দেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে প্রায় ৮০০ পদ শূন্য রয়েছে, যেগুলোতে শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে।
ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।