একের পর এক উন্নত অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৮
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত তিন দিন ধরে দেশটি ধারাবাহিকভাবে উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে বিশ্বকে নতুন করে নিজেদের সক্ষমতার বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত প্রতিপক্ষ দেশগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিচ্ছে পিয়ংইয়ং। এর ফলে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা দুই পক্ষের সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও আরও কমে যাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ক্লাস্টার ধরনের বিস্ফোরক, তড়িৎচৌম্বক অস্ত্র এবং কার্বন-তন্তু বোমার কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষাও চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ২৪০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এখন সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে কার্বন-তন্তু বোমা ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মুহূর্তেই অচল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষক শিন জং-উর মতে, পিয়ংইয়ংয়ের এই নতুন কৌশল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রমাণ হয়েছে যে শুধু বড় সেনাবাহিনী নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে না পারায় সংঘাতটি শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান ছাড়াই যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়। এই বাস্তবতাই উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে বোঝাতে চাইছে আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার থাকলে পরাশক্তিরাও সহজে আক্রমণে সাহস পায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মূল্যায়নে ভুল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই উত্তর কোরিয়া নিজেদের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা বিশ্বনেতাদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সূত্র: রয়টার্স
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।