রূপপুর প্রকল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার লোপাটের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান থমকে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:২১

সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া অনুসন্ধান দীর্ঘদিনেও শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ যাচাই করতে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বিদেশ থেকে তথ্য আনতে জটিলতার কারণে অনুসন্ধান কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হলেও কমিশনের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় না থাকায় এসব প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেওয়া যাচ্ছে না।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। অন্যদিকে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কমিশন না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সংস্থাটির কার্যক্রমে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কেবল পূর্বে অনুমোদিত কিছু অনুসন্ধান সীমিত পরিসরে চলছে, নতুন কোনো তদন্ত বা মামলা অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে এই অভিযোগের অনুসন্ধানের নির্দেশনা চান। পরবর্তীতে আদালত দুদকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করে এবং এরপর দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হয়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা রূপপুর প্রকল্পে বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয় প্রকল্প ব্যয় অতিরিক্ত দেখিয়ে বিপুল অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

বর্তমানে দুদকের তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগের পর সংস্থাটি কমিশনশূন্য অবস্থায় রয়েছে, যা চলমান অনুসন্ধানসহ সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও ধীর করে দিয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top