ভুয়া এমবিবিএস ডিগ্রির অভিযোগ, রাজনৈতিক ছায়ায় সক্রিয় চিকিৎসা বাণিজ্য
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৬, ১৫:৪৮
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মাহামুদুল হাসান নামের ওই ব্যক্তি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দিতে ‘মব’ তৈরি করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাহামুদুল হাসান নিজেকে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন, যার বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বে তার অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে তিনি পুনরায় রোগী দেখা শুরু করেন।
গত সোমবার (৪ মে) বিকেলে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্যামেরায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাংবাদিকরা স্থান ত্যাগের সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও তাদের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে মব তৈরি করে সাংবাদিকদের হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মো. মাহবুবুল আলম গত ১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান—মাহামুদুল হাসান ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান’ হিসেবে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দিতে পারেন কি না এবং এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন চাওয়া হয়। একই সঙ্গে গাইডলাইন না আসা পর্যন্ত তার চেম্বার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ৫ মার্চ মাহামুদুল হাসান আদালতের কার্যধারা অবমাননার অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশের জবাবে ১৯ এপ্রিল সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গাইডলাইন না আসা পর্যন্ত তিনি ইন্টিগ্রেটেড চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিতে পারবেন। এর পর থেকেই আবার প্রকাশ্যে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
এর আগে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে তার ব্যবহৃত ডিগ্রির সত্যতা নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি যে এমবিবিএস ডিগ্রি ব্যবহার করছেন তা মূলত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা বাংলাদেশে স্বীকৃত নয়।
জানা গেছে, একই অভিযোগে এর আগেও এক মামলায় তাকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে ২১ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, পুরো বিষয়টি না বুঝেই আইনজীবীর পরামর্শে নোটিশের জবাব দেওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার খোলার বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের অনুসন্ধানে অসঙ্গতি, পূর্বের সাজা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা—সবকিছুর পরও কীভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা নাকি সমন্বয়ের ঘাটতি—এ নিয়ে আলোচনা চলছে এলাকায়।
সচেতন মহলের মতে, শরণখোলার এই ঘটনা শুধু একজন ভুয়া চিকিৎসকের বিষয় নয়; এটি প্রশাসনিক শৈথিল্য, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জননিরাপত্তার বড় সংকেত। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।