বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে স্কুল-কলেজের সামনে সিগারেট বিক্রি বন্ধ করুন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৫

তাসনিমুল হাসান প্রান্ত

তরুণ প্রজন্ম হলো দেশের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। কিন্তু আজকের দিনে নেশার করালগ্রাসে এই প্রজন্মের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ধূমপান, যা সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর ও তরুণদের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। উদ্বেগজনক হলো, স্কুল ও কলেজের গেটের বাইরে অসংখ্য দোকানে সিগারেট বিক্রি হয়। ফলে কিশোর বয়সে নেশার পথে পা রাখা তাদের জন্য হয়ে ওঠে খুব সহজ। এটি শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, বরং জাতীয় সংকটও বটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তামাকের কারণে মারা যায়। বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, ধূমপান শুরু হয় সাধারণত কৈশোরে। বন্ধুর প্ররোচনা, কৌতূহল বা সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা প্রথম সিগারেট হাতে নেয়। একবার অভ্যাসে পরিণত হলে তা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।

বাংলাদেশের “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন” অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ জনসমাগমস্থলের ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে আইন কার্যকর হচ্ছে না। অনেক দোকানদার অল্প বয়সীদেরও সিগারেট বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা নিয়মিত নয়।

ঢাকা শহরের উদাহরণ দেখলে প্রতিটি স্কুল-কলেজের বাইরে ৫০–১০০ মিটারের মধ্যে সিগারেট বিক্রির দোকান পাওয়া যায়। গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের টার্গেট করে ছোট প্যাকেট বাজারে আনে। দোকানদাররাও মুনাফার জন্য বয়স যাচাই না করেই সিগারেট বিক্রি করে। এটি শুধু আইন ভঙ্গ নয়, সামাজিক অপরাধও বটে।

বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেমন, থাইল্যান্ডে স্কুলের ৫০০ মিটারের মধ্যে সিগারেট বিক্রি করলে বড় জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ২১ বছরের নিচে কাউকে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে সিগারেট বিক্রি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। আইন ভঙ্গ করলে দোকানের লাইসেন্স বাতিল। শিক্ষার্থীদের নেশার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি ও সেমিনার আয়োজন। অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা: সন্তানদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। ছোট প্যাকেট বিক্রি বন্ধ ও তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি।

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। স্কুল-কলেজের গেটের সামনে সিগারেট বিক্রি বন্ধ করা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। এখনই পদক্ষেপ না নিলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নেশার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, আর সেই দায় পুরো সমাজকেই বহন করতে হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top