জাতীয় নির্বাচনে এআই-এর ভয়াবহ প্রভাব: ডিজিটাল প্রলোভনের ধাঁধা
এ এইচ এম ফারুক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন এক নতুন বাঁক হতে চলেছে। এবারের নির্বাচনে প্রচারণার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ডিজিটাল ময়দান। কিন্তু সেই ময়দানে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
প্রথাগত পোস্টার বা মাইকিংয়ের তুলনায় ডিজিটাল কনটেন্ট এখন বেশি প্রভাবশালী। তবে এআই প্রযুক্তি অপব্যবহারের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো আরও সহজ হয়ে গেছে। খুব সামান্য কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করেই কারো ছবি বা কণ্ঠ বিকৃত করে মিথ্যা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি সেল সম্প্রতি জানায়, তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে এআই-জেনারেটেড ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং পিআইবি-র ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রার্থীর অবিকল প্রতিচ্ছবি ও কণ্ঠ তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিতর্কিত অডিও ক্লিপ বা নৈতিক স্খলনজনিত ভিডিও ভোটের ঠিক আগে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কিছু ভিডিও ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যেখানে নেতারা কোরআন হাতে শপথ করছেন বা ভোটের জন্য কৃত্রিম বার্তা দিচ্ছেন।বিএনপি তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে সামাজিক মাধ্যমে কোনো সেনসিটিভ ভিডিও দেখলেই তা যাচাই না করে শেয়ার করা যাবে না। ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতাদের নামে পরিচালিত অর্ধশতাধিক ভুয়া পেজ শনাক্ত করা হয়েছে। জামায়াত এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিও এআই-জেনারেটেড ভিডিওর শিকার হয়েছে।
সরকার এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘এআই মনিটরিং সেল’ গঠন করেছে। বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ‘ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ তৈরি করেছেন, যা মুহূর্তেই সন্দেহজনক কন্টেন্টের উৎস এবং এআই দ্বারা তৈরি কি না তা শনাক্ত করতে পারে।
বিটিআরসি ও এনটিএমসিকে বিদেশি ভুয়া ওয়েবসাইট ও আইপি অ্যাড্রেস ব্লক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মেটা, টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গে সমন্বয় করে এআই-জেনারেটেড কন্টেন্ট শনাক্ত হলে ১৫ মিনিটের মধ্যে সরানোর প্রোটোকল কার্যকর করা হয়েছে।
ভিডিওতে চোখ বা ঠোঁটের অস্বাভাবিক নড়াচড়া, রোবোটিক কণ্ঠ থাকলে সতর্ক হোন।, সেনসিটিভ ভিডিও দেখলে যাচাই করুন, নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল থেকে এসেছে কি না। বিতর্কিত বিষয় দেখেই শেয়ার না করে অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাইভেসি সেটিংস শক্ত করুন।
প্রযুক্তি যতই এগোবে, শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে মানুষের সচেতনতা। এবারের নির্বাচনে ব্যালট যেন কোনো ডিজিটাল প্রলোভনের শিকার না হয়, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা এবং সরকারি তৎপরতা জরুরি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।