মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উদ্বেগ, মানববন্ধন ও আহতদের চিকিৎসা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৪
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ত্রিমুখী সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বোমা ও গুলি এসে পড়া, স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনা এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সীমান্ত এলাকায় একের পর এক গুলি-স্থলমাইন ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় টেকনাফে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত ৫৭ জনকে টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, রোববার ৫৩ জন এবং সোমবার সকালে আরও চারজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে একজন আহত এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিজিবি এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে আবু হানিফ (২২) নামের এক মৎস্যজীবক স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্য পায়ে আঘাত লাগে।
আহতের বাবা ফজল করিম জানান, তার ছেলে নাফ নদীর বাংলাদেশ অংশে মাছ ধরার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত ১২ বছরের শিশু আফনান আরা এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর মাথায় বিদ্ধ গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে আছে এবং সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার বেলা ১১টায় হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান।
মো. আলম বলেন, “একজন নিরীহ শিশুর ওপর সীমান্তের ওপার থেকে গুলি আসা চরম মানবতাবিরোধী কাজ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এরকম কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।”
আলী হোসেন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি।”
মানববন্ধনে আরও দাবি জানানো হয়: আহত শিক্ষার্থী আফনানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো , ভবিষ্যতে কোনো নিরীহ মানুষ এ ধরনের হামলার শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা
বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে না পারে।
সীমান্তবাসীর অভিযোগ, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে কেন্দ্র করে দেশটির সেনাবাহিনী বিমান ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর পক্ষে স্থলভাগে সংঘাতে জড়াচ্ছে।
এসব সংঘাতের প্রভাব এখন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে পড়ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।