ইরানে বিক্ষোভে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তরুণের মৃত্যুদণ্ড, দুই দিনের বিচারে রায় কার্যকর আজ!
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৪
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানিকে মাত্র দুই দিনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে জানা গেছে, আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেই রায় কার্যকর করা হতে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা চলছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস প্রথম এরফান সোলতানির গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির তারা আগে দেখেনি।
এরফান সোলতানির বাড়ি ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের ফারদিস এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলে পরিবারের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিচার শেষ করা হয়। রোববার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, এরফানের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বুধবারই ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।
এ বিষয়ে এরফানের এক স্বজন বিবিসি ফারসিকে বলেন, আদালত ‘অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে’ বিচার কার্যক্রম শেষ করেছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ান জানায়, রায় ঘোষণার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার দেখা করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, এরফানের বোন একজন নিবন্ধিত আইনজীবী হলেও মামলার নথিপত্র না দেওয়ায় তিনি ভাইয়ের পক্ষে কার্যকর আইনি লড়াই চালাতে পারেননি।
সংস্থাটির মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, এই মামলা প্রমাণ করে যে ইরান সরকার জনগণকে দমন ও ভয়ভীতি ছড়াতে সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হুমকি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও অন্তত ১২ শিশু রয়েছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে ‘অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি ফাঁসি কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
সূত্র: বিবিসি
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।