সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয় ১০ গুরুত্বপূর্ণ আমল

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫২

ছবি: সংগৃহীত

লাইলাতুল কদর বা শবেকদর ইসলামে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র আল কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ তাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে অবতীর্ণ হন। সে রাত ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তিময়।’ (সুরা কদর : ১-৫)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত অর্থেই বঞ্চিত হলো। (সুনানে নাসায়ি : ২১০৮)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করে রাত জাগবে, তার আগের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বোখারি : ৩৫)

তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত এই বরকতময় রাত ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো। কদরের রাতে যেসব আমল করা যেতে পারে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দশটি নিচে তুলে ধরা হলো-

১. নফল নামাজ আদায়
কদরের রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইবাদত করতেন। (মুসলিম : ১১৭৫)

২. আওয়াবিন নামাজ পড়া
মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়ে এবং এর মধ্যে কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে, তাকে বারো বছর ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। (ইবনে মাজাহ : ১১৬৭)

৩. তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়
রাতের শেষভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা রয়েছে।

৪. সালাতুত তাসবিহ আদায়
চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করলে অতীতের বহু গোনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ পড়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

৫. কোরআন তেলাওয়াত
লাইলাতুল কদরের রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এ রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল।

৬. বেশি বেশি দোয়া করা
এই রাতে বিশেষ একটি দোয়া পড়ার জন্য নবীজি (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি : ৩৫১৩)

৭. দরুদ শরিফ পাঠ
নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। (মুসলিম : ৪০৮)

৮. তওবা ও ইসতেগফার করা
আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন। তাই এ রাতে বেশি বেশি ইসতেগফার করা উচিত।

৯. জিকির-আজকার করা
আল্লাহর স্মরণে জিকির করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। (সুরা বাকারা : ১৫২)

১০. অন্যদের জন্য দোয়া করা
নিজের পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতাগণ সেই দোয়া দোয়াকারীর জন্যও কবুল হওয়ার প্রার্থনা করেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top