মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

চাঁদের বুকে ‘শহর’ গড়ার পরিকল্পনা ইলন মাস্কের, আসলেই কি সম্ভব?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৭

ছবি: সংগৃহীত

এক্স (সাবেক টুইটার), টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, মঙ্গল গ্রহে শহর নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরিয়ে স্পেসএক্স এখন চাঁদে একটি ‘স্ব-বর্ধনশীল শহর’ গড়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি ১০ বছরেরও কম সময়ে সম্ভব হতে পারে।

মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদে ধীরে ধীরে স্থায়ী মানব বসতি স্থাপন করা হবে এবং তা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করে, আরও ঘন ঘন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, প্রতি ২৬ মাসে গ্রহগুলোর অবস্থান অনুকূলে থাকলে মঙ্গল অভিযান সম্ভব, যেখানে চাঁদে প্রতি ১০ দিন অন্তর মিশন পাঠানো যায়। অর্থাৎ, চাঁদে দ্রুত শহর নির্মাণের কাজ মঙ্গলের তুলনায় অনেক ত্বরান্বিত হবে।

স্পেসএক্সের মিশন এখনো মানবসভ্যতার সম্প্রসারণ। মাস্ক বলেন, চাঁদ হলো মঙ্গলের তুলনায় দ্রুততর বিকল্প, যা দীর্ঘমেয়াদে সভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে সহায়ক।

পরিকল্পনার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি-

চাঁদে ‘স্ব-বর্ধনশীল শহর’ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ নকশা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ড. সাংউ লিম মনে করেন, চাঁদের মাটি ব্যবহার করে অক্সিজেন, পানি এবং নির্মাণ উপকরণ উৎপাদন করা, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। চ্যালেঞ্জগুলো হলো চাঁদের চরম তাপমাত্রা, সূক্ষ্ম ধুলো, স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ এবং সীমিত শক্তি সরবরাহ। তিনি সতর্ক করেন, সবকিছু কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে এগুলো আগে পৃষ্ঠে পরীক্ষা করা আবশ্যক।

ড. উগুর গুভেন (জেডি গোয়েনকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও জেফরি হফম্যান (MIT এবং সাবেক নাসা নভোচারী) উল্লেখ করেন, চাঁদে ছোট ঘাঁটি স্থাপন এবং প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন ও পানি উৎপাদন শুরু করা আগামী দশ বছরের মধ্যে সম্ভব। এটি মঙ্গলে পরবর্তী বসতি স্থাপনের জন্য একটি ‘সোপান’ হিসেবে কাজ করবে।

চাঁদ বনাম মঙ্গল-

মাস্ক পূর্বে মঙ্গলের দিকে বেশি মনোযোগ দিতেও বলেছেন, কিন্তু চাঁদে শহর গড়ার সুবিধা হলো দ্রুত ও ঘন ঘন মিশন পাঠানো যায়। এছাড়া, প্রাথমিক মানব বসতির জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ পুনর্সংস্করণ সহজ হবে। মঙ্গলে যাত্রা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও জটিল, তাই চাঁদকে একটি মধ্যবর্তী স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-

চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ কার্যক্রমের মধ্যেই মাস্কের এই ঘোষণা এসেছে। তিনি সম্প্রতি এক্সএআই নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছেন, যা চাঁদে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। স্পেসএক্সের রকেট ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সাহায্যে কম খরচে ঘন ঘন উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে, যা প্রকল্পের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।

মাস্কের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এখনও মঙ্গল গ্রহ। তবে চাঁদে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, টেকসই চন্দ্র ঘাঁটি তৈরি করা, এবং প্রাথমিক মানব বসতি স্থাপন মঙ্গলের ভবিষ্যৎ অভিযানকে সহজ করবে।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ-

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চাঁদে সম্পূর্ণ ‘স্বনির্ভর নগরী’ তৈরি করা এখনও বহু দূরের লক্ষ্য। মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পূর্ণ সিস্টেম তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ—এগুলো বাস্তবায়নে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।

চাঁদে প্রথম মানববসতি স্থাপন ও ছোট ঘাঁটি নির্মাণ সম্ভব হলেও, স্বনির্ভর চন্দ্রনগরী তৈরি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। চাঁদে সফল উদ্যোগ মঙ্গলের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে এবং মানবজাতির মহাকাশে সম্প্রসারণের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top