দেশে এক দিনে দুইবার ভূমিকম্প, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশকের শঙ্কা
আবহাওয়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৮
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একদিনে দুইবার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার, এবং রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৯।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর আগে, সকালে (ভোরে) আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৪.১, যা সাধারণত মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকান ভূত্বাত্তিক অধিদপ্তর (ইউএসজিএস) অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি ৫.৯ মাত্রার ছিল এবং এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভূমিকম্পটি একই ফল্ট লাইনে ঘটেছে, যেটি অতীতে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পও সৃষ্টি করেছিল। এই ফল্টটি অত্যন্ত সক্রিয়, এবং ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক (পরবর্তী ভূমিকম্প) হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাতের ভূমিকম্পটি কক্সবাজার শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ২০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে ঘটায়, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের ২০ মিনিটের মধ্যে, মিয়ানমারে আবার ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, এটি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫১ মিনিটে রেকর্ড করা হয়।
এর আগে, ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায় একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৪.১। এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, এবং এটি খুবই সামান্য কম্পন সৃষ্টি করেছিল।
এই ঘটনাগুলো মিয়ানমারের ফল্ট লাইন এবং আশপাশের অঞ্চলের ভূমিকম্পীয় কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়, এবং বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আফটারশক বা নতুন ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।