এবার ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৪
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আট দিন পার হলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই; বরং হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে লক্ষ্য করে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের অষ্টম দিনে এক বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী নন। তার মতে, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না কিংবা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।
ট্রাম্প বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর উঠবে না।
তিনি আরও বলেন, এমনও সময় আসতে পারে যখন ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এই কথা বলার মতো কেউই আর বেঁচে থাকবে না।
এর আগে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত থাকতে চান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে নতুন নেতা নির্বাচন করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট পাল্টা ঘোষণা দেন—ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দফার আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। পাশাপাশি নিহত হন দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডারও।
এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। টানা কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছে। সে কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল, সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেগুলো এখনো লক্ষ্যবস্তু তালিকায় নেই, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হতে পারে।
এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। সর্বশেষ হামলায় প্রথমবারের মতো অতিদ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও ঘোষণা করেছে দেশটি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।