বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

আলি লারিজানি ও অন্যান্য 'শহীদদের' মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবোই: ইরানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জবাব হবে নির্ণায়ক ও অনুশোচনামূলক।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাতামি লারিজানি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে জবাব দেবে তা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতকে নতুন ও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সেনাপ্রধানের এমন ঘোষণার পরই ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বাহিনীটি জানায়, এই হামলা চালানো হয়েছে ‘শহীদ ডক্টর আলী লারিজানি ও তার সঙ্গীদের’ রক্তের প্রতিশোধ নিতে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের ভেতরে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইরানের এই পদক্ষেপ দেশটির সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু তেহরানের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার পর দেশটির জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা যায়, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান আমির হাতামির বক্তব্য সেই জনমতেরই প্রতিফলন। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে এবং এই পাল্টা আক্রমণ কেবল শুরু।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলও বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লারিজানি হত্যার এই ঘটনা সামনে রেখে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top