মণিপুর রাজ্যে ফের সহিংসতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর-এ আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে এক বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যুর পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্তঘেরা এই রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতিগত দ্বন্দ্বে জর্জরিত। উপত্যকায় বসবাসকারী হিন্দু মেইতেই জনগোষ্ঠী এবং পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধানত খ্রিষ্টান কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধই এই সংঘাতের মূল কারণ। গত কয়েক বছরে এই দ্বন্দ্ব কার্যত গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যা রাজ্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
সর্বশেষ সহিংসতার সূত্রপাত হয় ৭ এপ্রিল, যখন বিষ্ণুপুর জেলায় একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হন। নিহত শিশুদের বাবা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ ঘটনার জন্য মেইতেই নেতারা কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করলেও কুকি পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে শহরগুলো কার্যত অচল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলে সংঘর্ষে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি তেলের ট্যাংকারেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
৭ এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত এবং এক ডজনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া ১৮ এপ্রিল উখরুল এলাকায় পৃথক এক সশস্ত্র হামলায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসহ দুজন নিহত হন।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকারের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে রাজ্যে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হলেও সহিংসতার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, মণিপুরের চলমান জাতিগত সংঘাত আবারও রাজ্যটিকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।