শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪, ২০ আশ্বিন ১৪৩১

সারাদেশে কোটাবিরোধীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

রায়হান রাজীব | প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবিতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজধানী থেকে এবার ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। আজ রবিবার সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে, শিক্ষার্থীরা যার নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ রবিবার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনকারীরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ রবিবার দুপুর ৩টায় ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচিতে সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড়ের চারপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়৷

এর আগে দুপুর আড়াইটায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে হলপাড়া-ভিসি চত্বর-টিএসসি-বকশিবাজার-বুয়েট-ইডেন কলেজ-হোম ইকোনমিকস-নীলক্ষেত-টিএসসি হয়ে বিকেল ৫টায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে কোটা আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, কোটা বৈষম্য নিরসন এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানাই। সেগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top