রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ১২ দিনের দেশ ভ্রমণ: নেপালি শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের সৌন্দর্য অন্বেষণ

প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১

ছবি: সংগৃহীত

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং জীবনের এক ভিন্ন স্বাদের স্মৃতি। দেশ ভ্রমণ কেবল সৃষ্টির রহস্য, মানুষ ও প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ দর্শনের সুযোগই দেয় না, বরং বিশ্বজ্ঞান লাভের পথও খুলে দেয়। ঠিক এমনই একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে হাবিপ্রবি কৃষি অনুষদের ২১ ব্যাচের সি সেকশনের শিক্ষার্থীরা দেশ ভ্রমণে বের হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সময় হলো এই দেশ ভ্রমণ। এ বছর নেপালি শিক্ষার্থীরাও এই সফরে অংশগ্রহণ করেছে। বিদেশী শিক্ষার্থী হলেও আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজন নেপালি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশী প্রকৃতির সৌন্দর্য ও নৈসর্গিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

ভ্রমণটি শুরু হয় ২৯ ডিসেম্বর, হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস থেকে, এবং শেষ হয় নতুন বছরের ৯ জানুয়ারি। ১২ দিনব্যাপী শিক্ষামূলক সফরে শিক্ষার্থীরা পরিদর্শন করে সাজেক, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।

ভ্রমণের তত্ত্বাবধানে ছিলেন হাবিপ্রবি কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার, অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. মোহসেনা আক্তার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. সোহরাব হোসেন। এই সফরে অংশগ্রহণ করেন ৭ জন বিদেশী শিক্ষার্থীসহ ৬১ জন শিক্ষার্থী।

নেপালি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি জনপদের জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হয়। প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে তারা নতুন জ্ঞান ও অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়।

ভ্রমণকালে খেলাধুলা, গল্প ও আড্ডায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে। নেপালি শিক্ষার্থী অশোক ঘিমেরে বলেন, “জীবনে প্রথমবার চাঁদের গাড়িতে ভ্রমণ করেছি। শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল, তবে পুরো অভিজ্ঞতাটি আনন্দঘন ও উপভোগ্য ছিল। সাজেকের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং শীতল আবহাওয়ায় মেঘের ভেতর হাঁটার অনুভূতি একেবারে অনন্য।”

বান্দরবানের সৌন্দর্য নিয়ে লাভরাজ আচারিয়া বলেন, “দেবতাখুমে যাওয়া সম্ভব না হলেও সাঙ্গু নদীর পাড়ে হাইকিং ও জিপলাইন উপভোগ করেছি। মেঘলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

কাপ্তাই লেকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন নিতেশ কুমার যাদব, “এত বিশাল লেক আগে কখনো দেখিনি। নৌকা ভ্রমণ এবং স্থানীয় মাছের স্বাদ ছিল অতুলনীয়। আমি লেকের পাড় ও পাহাড়ি অঞ্চলে আরও যেতে চাই।”

সেন্ট মার্টিনের অপরূপ নীল সমুদ্রের সৌন্দর্য নিয়ে কপিল কে. সি. বলেন, “নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানো, স্কুবা ড্রাইভিং, সূর্যাস্তের দৃশ্য এবং সৈকতে রাতের হাঁটা একেবারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।”

ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান জিও ট্রিপসের প্রতিনিধি মহাইমিনুর জানান, “সবার জন্য সর্বক্ষণিক দুজন গাইডের ব্যবস্থা ছিল। বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বান্দরবান ও রাঙামাটিতে স্থানীয় গাইডও ছিল, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে এবং আনন্দের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারে।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top