শিক্ষা সংস্কারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব যাচাই জরুরি: ড. রফিকুল আবরার
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৬
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, পরিবর্তনের নামে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটছে, তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব পরিচয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতি ও অসংগতি পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটির খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
অধ্যাপক রফিকুল আবরার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অবদান রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার আলোচনায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়নি এবং প্রতিবেদনগুলো কোনো সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়।
তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব শেষ হলে তিনি নাগরিক সমাজভিত্তিক কার্যক্রমে ফিরে যাবেন এবং তরুণ সহকর্মীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো ভবিষ্যতের নীতিগত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে যেসব গবেষণা ও দাবিগুলো উঠে এসেছে, তার অনেকটাই এই প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বিশেষ করে মূল্যায়নব্যবস্থার সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সুপারিশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথও স্পষ্ট করেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে এতদিনের আলোচনা ছিল খণ্ডিত ও আংশিক। এবার বিষয়গুলো সুশৃঙ্খল ও সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনও শিক্ষা সংস্কারবান্ধব নয়।
কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার অনন্ত নীলিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।