২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সহপাঠীরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন- দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে অধ্যয়নরত আল মোকাদ্দাস।
মানববন্ধনে দাওয়াহ বিভাগের শিক্ষার্থী কাফি বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমাদের দুই ভাইকে গুম করা হয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল- তারা ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলতো। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাইনি। আমরা তাদের জীবিত বা মৃত- যেকোনো অবস্থার সঠিক সন্ধান চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ আহম্মেদ বলেন, “আমার ভাই বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন। এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই ক্ষতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। তৎকালীন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।”
একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তারা ফিরে আসবে। কিন্তু আজও কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন, না হলে শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।”
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে করে ফেরার পথে সাভারের নবীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৮–১০ জন ব্যক্তি বাস থেকে ওয়ালিউল্লাহ ও মোকাদ্দাসকে নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারা দুজনই ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং কমিটি পুনর্গঠন করে। তবে এখনো তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও নিখোঁজদের সন্ধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।