হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১৫ আহত
হাতিয়ায় প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৩
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনি এলাকা নোয়াখালীর হাতিয়ায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট ও বালু সরিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে ওই সড়কে ইট-বালু না থাকায় এনসিপির কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেন যে বিএনপির নেতারা ইট-বালু বিক্রি করে দিয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওটিকে সম্মানহানিকর দাবি করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরানোর দাবি জানান। ভিডিও সরানো হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে দুঃখ প্রকাশ ও তর্ক শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা অভিযোগ করেন, চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালা রাস্তা কেটে বিএনপির কয়েকজন নেতা ইট, বালু, পাথর ও পিচ বিক্রি করছিলেন। এর প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ও এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, এই হামলায় চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, ছাত্রশক্তির নেতা রবিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপির লোকজন আটটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে গেছে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইউসুফ রেজা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
অপরদিকে বিএনপির হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ইয়াসিন আলী সুজন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে এনসিপি নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাসে বলেন, রাস্তা কাটার মাধ্যমে ইট-বালু বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিএনপির সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।