মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তি, নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ-ইউরোপ সম্পর্ক

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৩

সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক সংস্করণে সই করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এ ধরনের চুক্তিতে যুক্ত হলো।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্রাসেলস-এ ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইইউর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাস উপস্থিত ছিলেন। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে পাওলা পামপোলিনি সই করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই পিসিএ চুক্তি ভবিষ্যৎমুখী একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে, যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় ইইউ ছিল বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকায় ইইউ কার্যালয় জানায়, এটি দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংযোগ, বিস্তৃত সহযোগিতা এবং উচ্চাভিলাষী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে একাধিক দফা আলোচনার পর এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এখন ইউরোপের ২৭টি দেশের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের দিকে এগোবে দুই পক্ষ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে পিসিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা শেষে ২০২৬ সালে এসে এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

পিসিএ একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপ, সুশাসন, মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top