মা-বাবার সঙ্গে ছোট কাজী ফাইয়াজ রিশানের জানাজা সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৪
রাজধানীর উত্তরায় ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবনে লাগা অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুমিল্লার বাসিন্দা কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১০টায় কুমিল্লা দারোগাবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় তাদের দ্বিতীয় জানাজা চৌদ্দগ্রাম চিওড়া রাস্তার পাশে ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
কাজী ফজলে রাব্বী কুমিল্লা জিলা স্কুলের ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরের নানুয়া দিঘীরপাড় ‘কাজী ভিলা’ তে। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এ কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ছিলেন।
দম্পতির দুই সন্তান ছিলেন ফাইয়াজ রিশান ও রাফসান। ঢাকায় থাকা রাফসান নানার বাড়িতে থাকায় অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণে বেঁচে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাব্বীর প্রথম স্ত্রী তিথী প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিক অসুস্থতায় মারা যান। পরবর্তীতে পরিবার ও আত্মীয়দের পরামর্শে তিনি পুনরায় বিয়ে করেন তিথীর বান্ধবী আফরোজা বেগম সুবর্ণার সঙ্গে। তাদের একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ রিশান। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে তিনি শিশুকে নানার বাসায় রেখে যেতেন।
শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় পরিবারের সবাই বাসায় উপস্থিত ছিলেন, তখনই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও তারা জীবন রক্ষা করতে পারেননি।
রাব্বীর বাবা কাজী খোরশেদুল আলম ও মা ফেরদৌস আরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতীর মরদেহ কুমিল্লায় নিয়ে আসেন। রাব্বীর মা নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন এবং সম্প্রতি দেবিদ্বার গার্লস হাইস্কুলে বদলি হয়েছেন।
ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লার নানুয়া দিঘীরপাড়ের বাড়িতে আনা হয়। রাত ১০টায় দারোগাবাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কাজী বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।