বসন্তের আবাহনে সপ্তরঙে সেজেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
এস কে বাপ্পি | খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০০
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। আর সেই ছোঁয়ায় রূপসী বাংলার এক টুকরো প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। চারদিকে গাঁদা, ডালিয়া ও সূর্যমুখীর হলুদ আভা যেন জানান দিচ্ছে—বসন্ত কেবল ক্যালেন্ডারেই নয়, মিশে আছে খুবির প্রতিটি ধূলিকণায়।
শীতের জড়তা কাটিয়ে বসন্তের এই রঙিন উৎসবে মেতেছেন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থীরা। বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সেজে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে আড্ডা, ছবি তোলা আর স্মৃতি বন্দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
ফুলের এই অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোশনী মেহরীন বলেন,
“ফুলের সৌন্দর্য আসলে জেন্ডারকেন্দ্রিক নয়—সব বয়সের মানুষই ফুল পছন্দ করে। বিশেষ করে সূর্যমুখী ফুল পজিটিভ এনার্জির প্রতীক। সূর্যের তাপের দিকেই মুখ করে বেড়ে ওঠা আমাদের শেখায়—কঠিনতার মাঝেও কীভাবে সামনে এগোতে হয়। একসাথে এত ফুল দেখে সত্যিই মন ভরে যায়। বাইরে থেকে দর্শনার্থীরাও আসছেন, ছবি তুলছেন—পুরো ব্যাপারটাই খুব উপভোগ্য।”
আরেক শিক্ষার্থী আসিফ হাসান অপি বলেন,
“বাইরে থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ফুলের সৌন্দর্য দেখতে ভিড় জমান—এটা দেখে আমাদের খুব ভালো লাগে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, সূর্যমুখীর পাশাপাশি অন্যান্য ফুলেরও আরও বাগান করা হলে সবাই মিলে এই সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করতে পারব।”
শিক্ষার্থী সুজীব চাকমা জানান,
“সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভাইয়া-আপুরা শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে এসে ছবি তোলেন—এই দৃশ্যটা দারুণ লাগে। সত্যি বলতে, খুলনায় একসাথে এত ফুল আর কোথাও নেই। তাই পর্যটকদের কাছেও এখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় আকর্ষণ।”
ক্যাম্পাসের পুষ্পিত পরিবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান বলেন,
“পড়াশোনার পাশাপাশি ফুলের বাগানে ঘোরাঘুরি করলে শিক্ষার্থীদের মন ভালো থাকে—আমাদেরও ভালো লাগে। খুলনায় ঘোরার জায়গা তুলনামূলক কম হওয়ায় সকাল-বিকাল ও ছুটির দিনে অনেক মানুষ ক্যাম্পাসে আসেন, ছবি তোলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর উদ্যোগ।”
হলুদ সূর্যমুখী আর বর্ণিল গাঁদা-ডালিয়া ও নাম না জানা নানা ফুলের মিতালিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস—যেখানে তুলির আঁচড় দিয়েছে স্বয়ং প্রকৃতি। ইট-পাথরের যান্ত্রিকতার মাঝে এই পুষ্পিত সমারোহ কেবল চোখের আরাম নয়, বরং ক্লান্ত মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতাকে আরও ঋদ্ধ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।