তেল মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের কারাদণ্ড
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করার দায়ে শামীম হাসান খান নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পৌরশহরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্স’-এর স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খান দীর্ঘদিন ধরে দোকানে তেলের সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু গোপনে নিজ বাসভবনের নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রাখতেন তিনি।
বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ দল ওই বাসভবনে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযুক্তের গুদাম থেকে জব্দ করা হয়:
- ডিজেল: ১,৬৮৩ লিটার
- পেট্রোল: ১২০ লিটার
- কেরোসিন: ২৬৩ লিটার
- অকটেন: ১০ লিটার
মোট জব্দ তেলের পরিমাণ: ২,০৭৬ লিটার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ২৬৫ টাকা।
অভিযান চলাকালে ইব্রাহিম খলিল নামে এক গাড়িচালক বলেন, “আমরা তেলের জন্য বিভিন্ন দোকানে ঘুরেছি, কিন্তু দোকানদার তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজ বাসায় এত তেল মজুত করে রেখেছেন।”
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শামীম হাসানের ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ জেলা প্রশাসকের দেওয়া পরিবেশসংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল মজুত করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জব্দ তেল মঠবাড়িয়া উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনের মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরদিন ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
ইউএনও আকলিমা আক্তার জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য পদার্থ মজুত করে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছিল। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা জ্বালানি মজুত করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।