বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী গ্রাম

দিনাজপুরের ৭ শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নিল কুমিল্লা সড়ক দুর্ঘটনা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর থেকে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন শ্রমিক। তাদের সবার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ভাইগর গ্রাম থেকে বিষু মিয়া (৪৫) কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় তার। তখন তিনি জানান, গন্তব্যে পৌঁছে আবার ফোন দেবেন। কিন্তু সকালে যে ফোনটি আসে, সেটি ছিল তার মৃত্যুর সংবাদ।

বিষু মিয়ার স্ত্রী রুকসানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী সংসারের অভাব মেটাতে ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন। এখন স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

শুধু বিষু মিয়াই নন, তার সঙ্গে আরও ১৩ জন শ্রমিক কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন ধান কাটার কাজে অংশ নিতে। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় দুর্ঘটনায় তাদের মধ্যে সাতজন নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে বিরামপুর উপজেলার ভাইগর গ্রামের সুমন, বিষু মিয়া, আবু হোসেন ও আব্দুর রশিদ রয়েছেন। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আফজাল হোসেন, সোহরাব হোসেন ও সালেকও নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ভাইগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিটি বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত বিষু মিয়ার মা হোসনারা জানান, সংসারে চরম অভাব ছিল। ঘরে চাল না থাকায় কাজের খোঁজে ছেলেকে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তার শেষ যাত্রা।

একই দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুর রশিদের মেয়ে রিয়া মনি বলেন, দরিদ্রতার কারণে তার বাবা কাজ করতে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রাকচাপায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারে ছয় বোন, সবাই বিবাহিত—এখন তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

রশিদের স্ত্রী লায়লা বানু জানান, তিনি স্বামীকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু সংসারের চাপে তিনি যেতে বাধ্য হন। সুস্থ মানুষটি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন ঝরে গেল সাতটি প্রাণ, অন্যদিকে অসহায় হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার—যাদের জীবিকার প্রধান ভরসাই ছিল এই শ্রমিকরা।

 
 


বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top