রাতের আঁধারে চারজনকে হত্যা, ঘাতকরা ছিল নিকটাত্মীয়
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৪
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিকটাত্মীয়দের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন এবং আরেক বোনের ছেলে সবুজ রানা (২০)। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (৩০), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।
পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। হাবিবুর রহমানকে বেশি সম্পত্তি দেওয়ায় পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই বিরোধই এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতের বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের মধ্যে কয়েকজন মিলে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে “দলিল দে, এবার তোর পালা” ধরনের একটি বার্তাও উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তকে আরও গুরুত্ব দেয়।
গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গ্রেফতারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।