মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশেও কমার আভাস

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৬, ০৯:০৬

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার প্রত্যাশা জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে দেশটির স্বর্ণের অগ্রিম চুক্তির দর ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। বরং এতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সমুদ্রপথে বাণিজ্য সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এই অবস্থায় ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ব্রেন্ট তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে এর চাহিদা কমে যায়।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন ধারণা জোরদার হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এতে সরাসরি কোনো আয় বা সুদ পাওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণে বিনিয়োগ কমাতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বাজারে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৯৫ ডলার, প্লাটিনাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৫ দশমিক ৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ ডলারে নেমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হতে পারে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top